কবিতার প্রতি প্রেম
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর খায়রুল বাসার আবৃত্তি করতে পছন্দ করতেন। একদিন জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তে গিয়ে তার মন ছুঁয়ে যায়। তিনি একের পর এক কবিতা পড়তে থাকেন। তবে কিছু কবিতার অর্থ বুঝতে তাকে বেগ পেতে হয়। বাসার অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করতে থাকেন। সেটা করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারলেন যে, "কবিতার একটা আলাদা জগৎ আছে।" সেই থেকেই তিনি কবিতার সঙ্গে প্রেমে পড়েন। আজও তার সেই প্রেম অটুট আছে। তিনি এখনও নিয়মিত কবিতা লিখেন।
বাসার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রথম আলোর বন্ধুসভার সদস্য ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আবৃত্তি চর্চাও করতেন। সেই সময় আবৃত্তি করতে গিয়ে তিনি কিছু কবিতাও লিখেছিলেন। সেগুলোর অনেকই প্রকাশও হয়নি। পরে তিনি শুধু অভিনয়ে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে কবিতা তাকে ছাড়েনি। এখন তিনি নাটক, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে ব্যস্ত থাকলেও কবিতা লেখার অভ্যাস তার রয়ে গেছে। তিনি সেগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখেন এবং ফেসবুকেও পোস্ট করেন।
তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টের কবিতায় লেখা আছে, "জানি না সাগর কতটা গভীর! পাহাড়ের গায়ে কত ক্ষত! তবুও আমরা ভালোবাসি আমাদের।" বাসারের মতে, "আমরা কোনো মানুষের গভীরতা বুঝতে চাই না। আমরা কেউ কাউকে বুঝি না। প্রত্যেকেই নিজের জায়গা থেকে অন্যকে চিন্তা করে। আমরা দিন শেষে খুব কমই কারও আশ্রয় হতে পারি। সেইসব বিষয়ই আমি কবিতায় লিখি।" তিনি মানবিক সম্পর্ক, জীবনবোধ, একাকিত্ব, বেদনা ও ভালো লাগার গল্প কবিতায় লিখতে ভালোবাসেন।
বাসার জানান যে, দিনের পর দিন কবিতা লিখব বলে বসে থাকলেও কোনো লাভ হয় না। কবিতা যখন হঠাৎ মাথায় আসে, তখন তিনি শুটিং বা ঘরে যেখানেই থাকেন না কেন, সময় বের করে সেটা লিখে রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় তিনি অনেক কবিতা ডায়েরিতে লিখেছিলেন। তার ইচ্ছা ছিল সেগুলো একদিন বই আকারে প্রকাশ করবেন। কিন্তু সেই ডায়েরি হারিয়ে যাওয়ায় তিনি খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। কবিতাগুলোও লাইন বাই লাইন তার আর মনে নেই।
খায়রুল বাসার বলেন, "আগে ক্যাম্পাসে যখন আমরা সংগঠন থেকে ম্যাগাজিন বের করতাম, তখন একবার আমার কবিতা ছাপা হয়েছিল। ২০১৬ সালে ভালোবাসা দিবসের সময় প্রথম আলোর বন্ধুসভার পেজে একটি কবিতা প্রকাশ পেয়েছিল। পরে কিছু ম্যাগাজিনেও আমার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। মাঝেমধ্যে অনেকেই আমাকে কবিতাগুলো বই আকারে বের করতে বলেন। আমারও সেই ইচ্ছা আছে।"
প্রসঙ্গত, বাসারের "দূরদেশ," "চোখ যে মায়ের কথা বলে," ও "খুনসুটি" নামে তিনটি নাটক সম্প্রতি একসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম দুটি নাটকে তার সহশিল্পী তানজিম সাইয়ারা তটিনী এবং শেষ নাটকে তানজিন তিশা। বাসার বলেন, "প্রবাসীদের নিয়ে বানানো দূরদেশ নাটকটি দর্শকদের অনেক আবেগঘন করেছে। অনেকেরই জীবনের সঙ্গে গল্পটি মিলে গেছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, তারা নাটক দেখার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।"