সুন্দরবন উপকূলে ‘দানা’ আতঙ্ক
দশালিয়া গ্রামের মজিবর গাজী জানান, "আবারও একটা ঝড় আসছে নাকি? প্রতিবারই আমাদের কপোতাক্ষ পাড়ের বাঁধটা ভেঙে যায়। ঝড় রিমালের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা এখনো মেরামত হয়নি। আবার ঝড়ের খবর শুনে আমাদের ঘর, চিংড়িঘের, সবই লোনাপানিতে ভেসে যাওয়ার ভয় হচ্ছে। এবার আর আমাদের এলাকা ছেড়ে যাব না।"
এদিকে, মদিনাবাদ গ্রামের সোহাগ হোসেন বলেন, "আগে ভরা জোয়ারেও বাঁধের অর্ধেক দেখা যেত। এখন পুরোটা পানিতে ভরে যায়। ঝড়ের কারণে জোয়ার আরো বাড়লে আমাদের গ্রাম লোনাপানিতে ডুবে যাবে।"
শাকবাড়িয়া নদীর পাড়ে পাথরখালী গ্রামের পারুল রানী বলেন, "আইলা ঝড়ের সময় আমাদের সবকিছু শাকবাড়িয়া নদীতে হারিয়ে গেছে। এরপর থেকে কোনোমতে বাঁধের পাশে বসবাস করছি। প্রতিবছরই কোনো না কোনো দুর্যোগ আসে। এবার আরও একটা বড় ঝড় আসছে শুনলাম। এবার ঝড়ের কারণে বাঁধ ভাঙলে আমরা কোথায় যাব? নদীর পারে থাকার মতো পরিবেশ রইল না।"
কয়রা উপজেলার অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধের দ keadaan দুশ্চিন্তাজনক বলে জানা গেছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উপজেলায় বেশ কয়েকটি এলাকার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ঝড় দানার আগাম সতর্কীকরণ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকাল রাতে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানান সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুল বান্না। তবে ঝড়ের গতিপথ এখনো সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলি বিশ্বাস জানান, ঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও সুপেয় পানির সরবরাহের পাশাপাশি উপজেলায় ১১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, "ঝড়ের সময় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।"